প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি– সংগৃহীত (সৌজন্য–পিটিআই)
ডিজিটাল ডেস্ক, ৮ নভেম্বর: এ বার দেওয়ালিতে নকশালবাদীদের নিয়ে ফের সতর্কবার্তা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার বস্তরে জওয়ানদের সঙ্গে তিনি দেওয়ালি পালন করেন। এ বছর তিনি বেছে নেন ছত্তীসগঢ়ের বস্তর, যা এক কালে ঘাঁটি ছিল মাওবাদীদের। সেখানে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রী ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি দাবি করেন– দেশ থেকে সশস্ত্র মাওবাদীরা নির্মূল হয়েছে। কিন্তু ‘দিমাগি নকশালেরা’ মানুষকে সংবিধান, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে চলেছে। বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল, সংগঠনেও তাঁরা প্রবেশ করেছে। তাঁদের চিহ্নিত করে, পরাজিত করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্যাপনেও প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে মাওবাদমুক্ত ভারতের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সে দিন লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের প্রসঙ্গ টেনে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব এখন অনেকটাই শেষ হয়েছে।’’ কিন্তু অন্য ধরনের নকশাল এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই গোষ্ঠীকে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, যারা মানসিক ভাবে নকশাল। মোদির বক্তব্য– সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা কমলেও মেধাবী মাওবাদী এবং মাওবাদী মনোভাবাপন্নরা এখনও এ দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে যাতে দেশের সমাজব্যবস্থাকে তাঁরা কোনও ভাবেই নিজেদের ভাবধারায় উদবুদ্ধ করতে না পারেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবুও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। তাই রবিবার দেওয়ালিতে বস্তরে এসে ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে ফের সতর্কবার্তা দিলেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন– ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। সেইমতো দেশের মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক অভিযান চালানো হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে কয়েকশো সশস্ত্র মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজও শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের অনেক শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তেমনই আবার বেশ কিছু শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ দিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের অধ্যায় শেষের দিকে। তবে তাঁদের মতাদর্শ বা চিন্তার প্রভাব এখনও কিছু জায়গায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এই বিষয়ে কোনও রকম আত্মতুষ্টি দেখানো উচিত নয়।
এ দিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট। তিনি জানান– দেশের নিরাপত্তা এবং ঐক্যের প্রশ্নে কোনও ধরনের হুমকিকে হালকাভাবে দেখা যাবে না। নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রেও দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি ফের ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেটাই দেখার।