29 C
Kolkata
Tuesday, May 5, 2026
Home Lead News নীলবাড়ি দখলে বদলের ঝড়, ঘাসফুল উড়িয়ে বঙ্গে ইতিহাস গড়ার পথে পদ্ম

নীলবাড়ি দখলে বদলের ঝড়, ঘাসফুল উড়িয়ে বঙ্গে ইতিহাস গড়ার পথে পদ্ম

বিজেপি-র কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। সৌজন্য ছবি– পিটিআই।

ডিজিটাল ডেস্ক, ৪ মে: টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই স্বপ্ন সফল হল না। ভবানীপুরে ঘরের মেয়েকেই হারিয়ে দিল সেখানকার ভোটাররা। মমতা হারলেন সেই শুভেন্দু অধিকারির কাছে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছেই হেরেছিলেন মমতা। এ বারেও ভোটের আগে শুভেন্দু জোরের সঙ্গে বলেছিলেন– ভবানীপুরেও উনি হারবেন। আর সেটাই হল। সেইসঙ্গে তৃণমূল ২২৬টিরও বেশি আসন পাবে, রেকর্ড গড়বে বলে মমতা যা বলেছিলেন, তা-ও মিলল না। কার্যত গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল ঘাসফুল। এ ভাবেই ২৬-এর ভোটে বঙ্গে ফের বদলের ইতিহাস লিখতে চলেছে  বিজেপি। এ নিয়ে মমতার সাফাই–এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমোরাল ভিক্ট্রি। মোরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।

সোমবার ভোট গণনার শুরু হতেই সময় যত গড়িয়েছে বদলের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইমতো এ দিন ৭৭টি কেন্দ্রে ২৯৩ আসনের ভোটগণনা শুরু হয়। সূর্যাস্তের আগেই পাহাড় থেকে সাগর– বইতে থাকে গেরুয়া ঝড়। সর্বশেষ ট্রেন্ড বলছে– বিজেপি ২০৭ আসনে, আর তৃণমূল ৮০ আসনে এগিয়ে আছে। পাশাপাশি সিপিএম ২, কংগ্রেস ২ এবং অন্যান্যরা ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

বিজেপি যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্জনের পথে, তখন দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারির দাবি–এটা হিন্দু কনসোলিডেশন-এর ফল। তাঁর কথায়, ‘‘মুসলিম ভোট যে ভাবে এতদিন তৃণমূলে যেত, এ বার তার একাংশ সরে গিয়েছে। আর হিন্দু ভোটের বড় অংশ এসেছে গেরুয়া ঝুলিতে।’’ এ কথা উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে বলেন। বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করবেন বলেও তিনি কর্মীদের অভয় দেন। কিন্তু গেরুয়া ঝড়ে কার্যত দিশাহারা তৃণমূলনেত্রী শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের জন্য তৈরি। বাস্তব ছবি– ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিজের আসন-ই ধরে রাখতে পারলেন না। এমনকী গোটা রাজ্য তাঁর দলের মহাপতনের ছবি দেখছে।

এ বারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। বদলের প্রবল ইচ্ছা-ই বাংলার মানুষকে বুথমুখী করেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। ফলাফল বিশ্লেষকদের প্রাথমিক মত–পনেরো বছরের তৃণমূলের শাসনে জমে ওঠা ক্ষোভ, নিয়োগ দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতির সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআর। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচনের আগে তুমূল রাজনৈতিক ঝড় উঠেছিল। তৃণমূল দাবি করেছিল, এতে প্রকৃত ভোটাররা বঞ্চিত হবেন। বিজেপি পাল্টা বলেছিল, এসআইআর হল ভুয়ো ভোটারদের তালিকা পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া। আর তাতেই তাদের জয়ের পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে বলে দাবি করছে গেরুয়া শিবির। এই জয় নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে জানিয়ে দেন–বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।

এর মধ্যে, রাজ্যের সরকারি দফতরগুলি থেকে যেন কোনও নথি বা একটি ফাইলও সরানো বা নষ্ট করা না হয়। কোনও ফাইল থেকে যেন কোনও তথ্য টুকেও না রাখা হয়। এই বিষয়গুলি রাজ্যের সব দফতরের সচিব এবং প্রধানদের নিশ্চিত করতে বললেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। সোমবার, ভোট গণনার দিনেই তিনি এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরে মুখ্যসচিব পদে বসানো হয়েছিল দুষ্মন্তকে।

চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল   

অসম

মোট আসন ১২৬, বিজেপি+ ১০২, কংগ্রেস ২২, অন্যান্য ৩

কেরল

মোট আসন ১৪০, ইউডিএফ ৮৯, এলডিএফ ৩৫, বিজেপি+৩, অন্যান্য ১৩

তামিলনাড়ু

মোট আসন ২৩৮, টিভিকে ১০৭,এডিএমকে+৫২, ডিএমকে+৭৪, অন্যান্য ১

পুদুচেরি

মোট আসন ৩০,এনডিএ ১৮, ইন্ডিয়া ৬,অন্যান্য ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here