লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সৌজন্য ছবি– এএফপি।
ডিজিটাল ডেস্ক, ১৫ অগস্ট: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষ উদ্যাপনে মাওবাদমুক্ত ভারতের প্রসঙ্গ উঠে এল। শনিবার লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাওবাদী মনোভাবাপন্নদের প্রসঙ্গ টেনে দেশবাসীকে সতর্ক করে দেন। তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘মানসিক নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের প্রভাব এখন অনেকটাই শেষ হয়েছে। কিন্তু অন্য ধরনের নকশাল এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে তাঁর দাবি। এই গোষ্ঠীকে তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, যারা মানসিক ভাবে নকশাল। মোদির বক্তব্য, সশস্ত্র মাওবাদীদের সংখ্যা কমলেও মেধাবী মাওবাদী এবং মাওবাদী মনোভাবাপন্নরা এখনও এ দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে যাতে দেশের সমাজব্যবস্থাকে তাঁরা কোনও ভাবেই নিজেদের ভাবধারায় উদবুদ্ধ করতে না পারেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন– ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। সেইমতো দেশের মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে একের পর এক অভিযান চালানো হয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে কয়েকশো সশস্ত্র মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার কাজও শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মাওবাদীদের অনেক শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তেমনই আবার বেশ কিছু শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ দিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র নকশালদের অধ্যায় শেষের দিকে। তবে তাঁদের মতাদর্শ বা চিন্তার প্রভাব এখনও কিছু জায়গায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এই বিষয়ে কোনও রকম আত্মতুষ্টি দেখানো উচিত নয়।
এ দিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট। তিনি জানান– দেশের নিরাপত্তা এবং ঐক্যের প্রশ্নে কোনও ধরনের হুমকিকে হালকাভাবে দেখা যাবে না। নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রেও দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। এখন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেটাই দেখার।