রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট হাতে (বাঁ দিকে) অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। ছবি– সংগৃহীত।
ডিজিটাল ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারি: ভোট বড় বালাই! তাই কল্পতরু রাজ্যের মমতা-সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করে এ কথা বুঝিয়ে দিলেন অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এটাই শেষ রাজ্য বাজেট। সেই বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে আরও চার শতাংশ। মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য নতুন ভাতাও ঘোষণা করা হয়। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘বাংলার যুব সাথী’। আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। ২১-৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। তবে এই ভাতা পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভান্ডারে ভাতাও ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন লক্ষ্মীর ভান্ডারে সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা মাসে ১,০০০ টাকা করে ভাতা পেয়ে থাকেন। তাঁরা এ বার থেকে তাঁরা ১,৫০০ টাকা পাবেন। আর তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে পাবেন ১,৭০০ টাকা। তাঁরা এতদিন মাসিক ভাতা বাবদ ১,২০০ টাকা পেতেন। বাড়তি ভাতা কার্যকর হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। অর্থমন্ত্রী জানান– লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে আরও চার শতাংশ। রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলায় মমতার সরকারের উপর ভালরকম আর্থিক বোঝা চাপল। কারণ, পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মামলার এ দিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, আগামী মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএয়ের ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় মাথায় নিয়েই ‘কল্পতরু’ সরকার। সেইমতো রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সহায়কদের জন্য ভাতাও ১০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হল অন্তর্বর্তী বাজেটে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদের মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছে এই বাজেটে। অর্থমন্ত্রী জানান– এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। আশা কর্মীদের জন্য ভাতাও ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হল বলে এ দিন ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।